জানুন নারীর বন্ধ্যাত্ব কী ও চিকিৎসা করাবেন কীভাবে।  

(অভয়নগর বার্তা স্বাস্থ্য ডেস্ক)

জানুন নারীর বন্ধ্যাত্ব কী ও চিকিৎসা করাবেন কীভাবে।

আসুন প্রথমে জানি বন্ধ্যাত্ব কীঃ

প্রাপ্তবয়স্ক কোনো নারীর যদি এক থেকে দুই বছর অবধি উপযুক্ত সময়ে যথাযথভাবে কোনো প্রকার জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি বা কৌশল ছাড়া জন্মদানে সক্ষম এমন পুরুষের সাথে (স্বামীর) স্বাভাবিক যৌন মিলন বা মেলামেশার পরও ওই নারী গর্ভবতী না হন তবে তাকেই নারী বন্ধ্যাত্ব বলে।

স্বাস্থ্য জরিপের ফলাফলে যা বলে তাতে দেখা যাচ্ছে, মোট বন্ধ্যাত্বের অর্ধেকের বেশির ভাগই নারীর কারণ। আর তিনের এক ভাগ হয়ে থাকে পুরুষের কারণে। বন্ধ্যাত্ব দুই ধরনের-

প্রাইমারি
উপরের সংজ্ঞানুযায়ী বা কোনো নর-নারী যুগল যদি পূর্ণ সুযোগ-সুবিধা ভোগ করাসহ এক থেকে দুই বছর সময় সহাবস্থানে থেকে কোনো প্রকার নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যতিরেকে যৌন মিলনের পরও সন্তান ধারণে বা গর্ভবতী হতে সক্ষম না হন তবে তাকে প্রাইমারি নারী বন্ধ্যাত্ব বলা হয়।
সেকেন্ডারি
একটি বা দুটি সন্তান জন্মদানের পর যদি সন্তান জন্মদানের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও এক থেকে দুই বছর অবধি আর গর্ভধারণ না করেন তবে তাকে সেকেন্ডারি বন্ধ্যাত্ব বলে।
বন্ধ্যত্বের কারণ
• অপ্রাপ্ত বয়স্ক হলে। মেনোপজের পরে • হিস্টেরেক্টমির পর বা জরায়ু না থাকলে
• টিউবেক্টমির পর বা উভয় টিউব না থাকলে
• বিবাহিত কিন্তু দু’জনই দূরে অবস্থান করলে অথবা একই সাথে অবস্থানের পরও যৌনমিলন না হলে।

নারীর বন্ধ্যাত্বের গুরুত্বপূর্ণ কারণ :
• নারী হরমোনের সমস্যা
• হাইপার থাইরয়েডিজম
• অস্বাভাবিক জরায়ু থাকলে • জরায়ুতে মোল থাকলে • ফাইরয়েড থাকলে • জরায়ুর মুখে পলিপ থাকলে • জরায়ুর জন্মগত ত্রুটি থাকলে • জরায়ুর মুখ অস্বাভাবিক থাকলে • জরায়ুর ফাংশনগত ত্রুটির কারণে ব্লিডিং হতে থাকলে • মাসিক অনিয়মিত থাকলে (কারো দেখা যায় ৬ মাস একাধারে ব্লিডিং হতে থাকে আবার একাধারে ৬-৯ মাস মাসিক বন্ধ থাকে) • ডিম্বাশয়ে জন্মগত ত্রুটি থাকলে, ব্লক থাকলে • বয়সের জন্য জরায়ুর কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেললে • পেলভিক এন্ডোমেট্রিয়সিস হলে।

আর যে সব ফ্যাক্টর বন্ধ্যাত্বের জন্য সহযোগিতা করতে পারে • ডায়াবেটিস মেলিটাস • গনোরিয়া • সিফলিসে ভোগা • এপেন্ডিসাইটিস- এসাইটিসে ভোগা, ওভারিয়ান সিস্ট- টিউমার থাকা • রেট্রোভারশন • ইউটেরাইন ইনফ্লামেশন, সালফিংজাইটিস • এন্ডোমেট্রিওসিস • ইউটেরাইন ফাইব্রয়েড • ইউটেরাইন ক্যান্সার • ফ্যালোপিয়ান টিউব ক্যান্সার • ভ্যাজাইনাল ক্যান্সার • ট্রাইকোমনাস ইনফেকশন • হাইম্যান পুরো হলে এবং ভ্যাজাইনার পথ খুব সরু সঙ্কীর্ণ থাকলে।https://www.facebook.com/jobinfo24hours/

আরো যেসব কারণ সহযোগিতা করতে পারে • খুব বেশি মুটিয়ে গেলে • এক সন্তান নেয়ার পর দীর্ঘ দিন অপেক্ষা করলে এবং ওরাল পিল নিলে ও অন্যান্য হরমোনাল চিকিৎসা নিলে • কঠিন তাপে এবং কঠোর পরিশ্রান্ত থাকলে • স্বাস্থ্যহীন বা এনিমিয়া থাকলে • ভিটামিন বি ১২ এর অভাব থাকলে • বয়স বেড়ে গেলে • মানসিক দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হলে • ক্যাফেইন বেশি নিলে • স্ত্রী ও স্বামীর অমিল থাকলে • স্ত্রী বা স্বামী দূরে থাকলে • সঙ্গমভীতি থাকা • পুরুষভীতি থাকা • কখনো কখনো আগের সন্তান দুগ্ধপুষাবস্থায় পুনরায় সন্তান আসে না • সিস্টেমেটিক সহবাসের অভাব হলে।

প্রয়োজনীয় পরীক্ষা
• আল্ট্রাসনোগ্রাফ, ডিম্বনালী-ডিম্বাশয়, জরায়ুর ত্রুটি জানার জন্য।
• হরমোনাল ত্রুটি জানার জন্য :- টিএসএইচ, প্রোলেক্টিন, এফএসএইচ, টেসটোস্টেরন, ডিএইচইএএস, এলএইচ।
আরো প্রয়োজনে করতে হতে পারে : হিস্টেরসালল পিনগোগ্রাফি • ওভুলেশন টেস্ট-ব্যাসাল বডি টেম্পারেচার টেস্ট • ফার্ন টেস্ট • ল্যাপারোস্কপি • ফারটিলাইজেশন টেস্ট।

চিকিৎসাঃ
নারীর বয়স, পেশা, বাসস্থান, কাজের ধরন, প্রথম মাসিক থেকে বর্তমান মাসিকের অবস্থা, এর মধ্যের ইতিহাস, জন্মনিয়ন্ত্রণের কোনো প্রচেষ্টা এ পর্যন্ত চালিয়েছে কি না, চালিয়ে থাকলে কী ধরনের, কত দিন এবং কোন ধরনের পদ্ধতির চেষ্টা চালাচ্ছেন। সহবাসজনিত কোনো সমস্যা আছে কিনা, প্রজননতন্ত্রের কোনো অপারেশন আছে কিনা- এগুলো পর্যালোচনা করে এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা করে থাকেন। (ডা:মো: হুমাউন কবীর,প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ; মোবাইল:০১৭১৭৬৯০৫৫৫)

Leave a Reply