ঘরকে ধুলোমুক্ত রাখবেন যে ভাবে।

(স্বাস্থ্য ড‌েস্ক,অভয়নগর বার্তা)

ঘরকে ধুলোমুক্ত রাখবেন যে ভাবে।

মানুষ সাধারনত একটু আরাম প্র‌িয়। তাই বসবাসের ঘরটাও রাখতে চায় ধুলো-বালু ও জীবাণুমুক্ত। সেই ঘরের ধুলো পরিষ্কার করতে করতে আপনি ক্লান্ত। আজ পরিষ্কার করলেন। কিন্তু, দু’দিন যেতে না যেতেই ঘর আবারও আগের অবস্থায় ফিরে এল। কেন বারবার ফিরে আসে ধুলো?

আসলে, বাড়িকে সম্পূর্ণ ধুলোহীন করা কার্যত অসম্ভব। কারণ, জানলা-দরজা দিয়ে হাওয়ায় ভেসে প্রতিনিয়ত অসংখ্য ধূলিকণা ঘরের ভিতরে ঢুকে পড়ে। এরমধ্যে থাকে ফুলের রেণু, মৃত কোশের অংশ, কাগজ বা কাপড়ের অংশ বা পশুর লোম। এই কণাগুলি থেকে ছোটো ছোটো জীবাণু(ডাস্ট মাইটস)-এর জন্ম হয়, যেগুলি খালি চোখে দেখা যায় না। ডাস্ট মাইটসগুলি বিছানা, বালিশ, ম্যাট্রেস বা জামাকাপড়ে বাসা বেঁধে আমাদের অসুস্থ করে তোলে। তাই, সুস্থ থাকতে হলে বাড়িতে ধুলো জমতে দেওয়া যাবে না। ডাস্টিংয়েরও কিছু নিয়মকানুন আছে। আজ থাকল সেই বিষয়েই কিছু টিপস-

  • বাড়ির ধুলো পরিষ্কার করুন নিয়মিত। আর যখন যে জায়গাটা ইচ্ছে হল পরিষ্কার করলেন, এমন করবেন না। নির্দিষ্ট নিয়মে, ক্লক-ওয়াইজ় বা অ্যান্টি ক্লক-ওয়াইজ় ঘরের প্রতিটি অংশ পরিষ্কার করুন। পরিষ্কার করুন ঘরে থাকা আসবাবগুলিও। বাদ দেবেন না ঘরের কোনও কোনা।https://www.facebook.com/abhaynagarbartacom/
  • ধুলো ঝাড়ার পর ভিজে কাপড় দিয়ে একইভাবে ঘরের প্রতিটি অংশ মুছে নিন। মুছুন ঘরে থাকা আসবাবগুলিও। আসবাবের পিছনে বা নিচে অনেক সময় ধুলো জমে থাকে, যা চোখ এড়িয়ে যায়। পরিষ্কার করুন সেই অংশটিও।
  • একটি ঘরে ধুলো পরিষ্কার শেষ হলে অন্য ঘরে যাওয়ার আগে যা দিয়ে ধুলো ঝাড়লেন, সেটিও পরিষ্কার করে নিন। খেয়াল রাখুন সামান্য পরিমাণ ধুলোও যেন তাতে না থাকে। ভিজে কাপড়টিও পরিষ্কার করুন।

  • ক্যাবিনেট, বক্স খাট বা ওয়্যারড্রোবের ভিতরে জমে থাকা ধুলো পরিষ্কার করুন।
  • ঘরের বা আসবাবের কোনও কোনও অংশে হাত পৌঁছয় না, সেই জায়গাগুলি পরিষ্কার করতে ব্যবহার করতে পারেন লম্বা হাতলওয়ালা ডাস্টার।
  • রান্নাঘর বা বাথরুমের দেওয়ালও একইভাবে পরিষ্কার করুন। শেষে ভিজে কাপড় দিয়ে মুছে নিন।

  • বিছানার চাদর, বালিশের কভার বা কুশন কভার সপ্তাহে একবার বদলে ফেলুন। নোংরা হয়ে যাওয়া চাদর বা কভারটি কাচুন প্রতিবার।
  • চাদর বদলানোর সময় পরিষ্কার করুন ম্যাট্রেসটিও। ম্যাট্রেস কভারটি খুলে ধুলো ঝেড়ে নিন। তারপর আবার কভার পরিয়ে দিন। উপর থেকে আরও একবার ধুলো ঝেড়ে বিছানায় পেতে দিন।
  • জামাকাপড় প্লাস্টিকের প্যাকেটে ভরে আলমারিতে রেখে দিন।

  • বালিশ, চাদর বা পাপোশের ধুলো ঝাড়ুন বাড়ির বাইরে গিয়ে।
  • প্রতিটি ঘরে লাগাতে পারেন এয়ার পিউরিফায়ার। তাহলে, ধুলো থেকে হওয়া অ্যালার্জির পরিমাণ অনেকটা কমবে।
  • মেঝেতে কার্পেট পাতলে দেখতে খুব সুন্দর লাগে ঠিকই, কিন্তু এই কার্পেটে জমা হয় অসংখ্য জীবাণু। নিয়মিত পরিষ্কার করুন কার্পেটটি। ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করুন। যদি সম্ভব হয় ঘরে কার্পেট না পাতার চেষ্টা করুন।

Leave a Reply