লাগামহীন বাড়ছে চালের দাম,আবারও কেজিতে বেড়েছে ৬ টাকা।

(মনজুরুল,অভয়নগর বার্তা)

লাগামহীন বাড়ছে চালের দাম,আবারও কেজিতে বেড়েছে ৬ টাকা।

 

লাগামহীন বাড়ছে চালের দাম।আবারও চালের দাম কেজিতে ৬ টাকা করে বৃদ্ধি পেয়েছে। ঈদের আগে যে মিনিকেট চাল বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৫৭ টাকায় বর্তমানে ৬৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাত্র পনের দিনের ব্যবধানে কেজি প্রতি চাউলের দাম বেড়েছে গড়ে ৬ টাকা।

 

শুধু মিনিকেট নয়, নাজিরশাইল, কাজললতা, বিআর আটাশ সব ধরনের চালের দামই গড়পড়তায় বেড়েছে। চালের ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধিতে নাভিশ্বাস উঠেছে নিম্ন আয়ের মানুষের। চাল আমদানী বন্ধের গুজব তুলেই দাম বাড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা।

 

খুলনার বড় বাজারের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, চাউলের বাজার বেশ কিছুদিন ধরেই অস্থিতিশীল। ধারাববাহিভাবে চালের দাম বেড়েই চলেছে। তবে এ বছরে সেই অস্থিতিশীলতা যেনো তুঙ্গে উঠেছে। বছরের শুরু থেকে শেষ সময় পর্যন্ত দাম কমেনি। বড় বাজারের অন্যতম পাইকারি ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান পূর্বাঞ্চলকে জানান, ভালো মানের মিনিকেট এখন বিক্রি করছেন প্রতি কেজি ৬০ টাকা দরে।

 

তবে চালের মান অনুযায়ী প্রতি কেজি মিনিকেটের দাম ৫৮ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে রয়েছে। খুচরা বাজারে সেই চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৩ টাকা দরে। একইভাবে প্রতি কেজি নাজিরশাইল চাল বিক্রি করছেন ৬৫ থেকে ৭০ টাকা দরে। বিআর আটাশ চাউলের দাম ৪৮/৪৯ টাকা। আর সবচেয়ে কম দামের গুটি স্বর্ণা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা দরে।

 

চাউলের দাম প্রতিনিয়ত বৃদ্ধির কারণ হিসেবে এ ব্যবসায়ী জানান, ধান মৌসুমে মিল মালিকদের সিন্ডিকেটের কারণে চালের দাম বৃদ্ধি পায়। ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট এখন আর নেই। মোকাম ছোট হয়ে যাওয়ায় খুলনার ব্যবসায়ীদের হাতে চালের বাজার নিয়ন্ত্রিত হয় না। সেটা এখন চলে গেছে মিলারদের হাতে।তবে চাল ব্যবসায়ীদের এ অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে ইতোমধ্যে। মিল মালিকদের কাছে বড় ধরনের চালের মজুদ এবং সিন্ডিকেট গঠন, খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহ না করে সরকারকে অসহযোগিতা করার অভিযোগে ১৬ হাজার মিল মালিককে কালো তালিকাভুক্ত করা হয় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।

 

খুচরা বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুচরা বাজারে মোটা চাল স্বর্ণা বিক্রি হচ্ছে ৪২/৪৩ টাকা দরে। বালাম ৫৩ টাকা, বাসমতি ৬৬ টাকা, স্থানীয় কৃষকের ভাইটাল ৬১ টাকা, ইরি আতপ ৪৪ টাকা, বিআর-২৮ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়।ব্যবসায়ীরা আরও জানিয়েছেন, বাজার সচল এবং চালের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে চালের আমদানী শুল্ক ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে মাত্র ২ শতাংশে নামিয়ে আনে।

 

এরপরও আমদানীকারক ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খুলনা ধান চাল বণিক সমিতির এক নেতা জানান, আমদানীকারকরা ভুয়া খবর ছড়িয়ে দিয়েছে যে ভারত থেকে চাল আমদানী বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছে। যে কারণে ব্যবসায়ীরা হঠাৎ করেই চালের দাম বৃদ্ধি করেছে। এতে চারিদিকে সৃষ্টি হয়েছে হাহাকার। মাত্র দু’একদিনের মধ্যেই দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ৫/৬ টাকা। এতে সাধারণ মানুষ ক্ষতির শিকার হচ্ছে। তবে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এমন নিদের্শনা নেই এ বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাওয়ায় আগামী দু’একদিনের মধ্যে এ পরিস্থিতি থাকবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা।চালের দাম প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাওয়ায় কারণে সবচেয়ে দুর্ভোগে পড়েছে শ্রমজীবী এবং নিম্ন আয়ের মানুষেরা।

 

একজন শ্রমিককে গত বছরের তুলনায় অন্তত গড়ে ১২ থেকে ১৫ টাকা বেশি দিয়ে চাল কিনতে হচ্ছে। যাদের পরিবারে প্রতিদিন গড়ে ৩ থেকে ৪ কেজি চাউল লাগে তাদেরকে গড়ে ত্রিশ থেকে পঞ্চাশ টাকা শুধু চাউল বাবদই বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে।
রিক্সাচালক নজরুল, খবির উদ্দিন, দিনমজুর অব্দুল হক জানান, দিনে ৩শ’ টাকা আয় করলে একশ’ টাকাই লাগে চাল কিনতে। অন্য প্রয়োজনে আর টাকা লাগানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

Leave a Reply