রাজাকারের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি এমপি রণজিৎ রায়,ধিক্কার জানাচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধারা !

এমপি রণজিৎ

রাজাকারের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি এমপি রণজিৎ রায়,ধিক্কার জানাচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধারা !

ফয়সাল শেখ, যশোর জেলা প্রতিনিধি।। অভয়নগরবার্তাঃ

গত ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে বাঘারপাড়ার প্রেমচারা স্কুল মাঠের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন এমপি রণজিৎ রায়। আর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাঘারপাড়ার আলোচিত আমজাদ হোসেন মোল্লা রাজাকার।এমপি রণজিৎ

এর আগে গত মার্চ মাসে বাঘারপাড়া এই কুখ্যাত রাজাকার এমপি রণজিৎ রায়ের হাত ধরে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মাগুরার শালিখা উপজেলার সীমাখালিতে রজব আলী হত্যার ঘটনায় আমজাদ রাজাকারসহ ৪ যুদ্ধাপরাধীর বিরুদ্ধে মাগুরায় মামলা হয়েছে। মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য যুদ্ধাপরাধ বিষয়ক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়েছন আদালত। মাগুরার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শম্পা বসু ওই আদেশ দেন।

বাদী পক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট সমর জোয়ারদার বলেন, ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট মাগুরার সীমাখালি গ্রামে রাজাকার আমজাদ মোল্যা, কেরামত মোল্য, ওহাব ও ফসিয়ার মোল্যা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করার অপরাধে রজব আলী বিশ্বাসকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে পার্শ্ববর্তী চাঁদপুর গ্রামের ইফাজ মোল্যার আম বাগানে গলা কেটে হত্যা করে ফেলে রেখে যায়। এ ঘটনায় রজব আলীর ছেলে খোকন বিশ্বাস বাদী হয়ে মাগুরার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এ গত ০৬ এপ্রিল এ মামলা করেন।

পহেলা বৈশাখারে অনুষ্ঠানে এমপি রণজিৎ রায় ছাড়াও বাঘারপাড়া পৌরসভার মেয়র কামরুজ্জামান বাচ্চু, বাঘারপাড়ার বন্দবিলা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুস সামাদ মন্ডল, সম্পাদক আব্দুল হামিদ ঢাকু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। একজন স্বীকৃত রাজাকারের সভাপতিত্বে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের এমপি বক্তব্য রাখায় বাঘারপাড়ার সর্বত্র ধিক্কার জানাচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধারা।

বাঘারপাড়ার বন্দবিলা ইউনিয়নের প্রেমচারা গ্রামের মৃত সোবহান মোল্যার বড় ছেলে স্বীকৃত রাজাকার আমজাদ মোল্যা। সে এতই স্বীকৃত রাজাকার যে তাকে শুধু আমজাদ বললে মানুষ চেনে না। বরং তাকে রাজাকার আমজাদ বলতে হয়। এলাকার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারদের কাছে রাজাকারদের যে নামের তালিকা রয়েছে সেখানেও তার নাম লিখিত রয়েছে উপরের দিকে। কত নিরীহ মানুষকে আমজাদ রাজাকার হত্যা করেছে তার সঠিক হিসাব দেয়া কঠিন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় আমজাদ ও তার বাহিনীর মাধ্যমে অসংখ্য মানুষকে নিঃস্ব করেছে।

তার সহযোগী হিসেবে তার সহোদর কেরামত মোল্যা ও রাজাকার ওহাব মোল্যা অনেক নির্যাতন করেছে। মুক্তিযোদ্ধারা বলছেন, আমজাদ এমন কোন অপরাধ নেই যা করেনি। হত্যা, ধর্ষন, ডাকাতি, লুটপাট সবকিছুই সে করেছে। আমজাদ স্বাধীনতার পর এলাকা থেকে পালিয়ে যায়।

১৯৭২ সালের শেষের দিকে এলাকায় ফিরলে আটক হয়। কারাগারে ছিল কয়েক বছর। ১৯৭৫ সালে জাতীর জনকের হত্যার পর কারাগার থেকে মুক্তি পায় আমজাদ রাজাকার। পরবর্তীতে বেশ কিছুদিন লুকিয়ে থাকে। পরে জিয়াউর রহমান বিএনপি গঠন করলে রাজাকার আমজাদ প্রকাশ্য রাজনীতি শুরু করে।

তারপর এরশাদ আমলে সে জাতীয় পার্টিতে যোগদান করে। পরে অবশ্য বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর আবার বিএনপিতে যোগদান করে আবার ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বেড়ায়। এবার ঘুরছে নৌকার পিছে।

Leave a Reply