যশোরে নিহত ছাত্রলীগ নেতা ইমনের লাশ নিয়ে মৌন মিছিল করেছে ছাত্রলীগ।


যশোর প্রতিনিধি,অভয়নগরবার্তাঃ যশোরে নিহত ছাত্রলীগ নেতা ইমনের লাশ নিয়ে মৌন মিছিল করেছে ছাত্রলীগ।

যশোরে নিহত ছাত্রলীগ নেতা ইমনের লাশ নিয়ে মৌন মিছিল করেছে ছাত্রলীগ।ময়নাতদন্ত শেষে দুপুর ১টার দিকে তার লাশ নিয়ে ছাত্রলীগ মৌন মিছিলের মধ্য দিয়ে যশোর শহর প্রদক্ষিণ করে দাফনের জন্য নিহতের বাড়িতে নিয়ে যায়। মিছিলে স্থানীয় লোকজন, স্বজন ও ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে কোতয়ালি থানার পুলিশ ইমনের খুনিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যহত রেখেছে।

রবিবার বেলা ১২টার দিকে ছাত্রলীগ নেতা নিহত মনোয়ার হোসেন ইমন (৩২) ময়নাতদন্তের শেষ করেন হাসপাতালের জরুরী বিভাগের তিন ডাক্তার। এর মধ্যে ময়নাতদন্তকারী ডাক্তার কাজল মল্লিক ও ডাক্তার কল্লোল কুমার সাহা ময়নাতদন্ত শেষে সাংবাদিকদের জানান, ইমনের বুকের বাম পাশে দুটি গুলি এবং ডান কাঁধে একটি গুলি চিহ্ন রয়েছে।

নিহতের চাচা বাবুল আক্তার জানান, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে যশোর শহরের আজিমাবাদ কলোনীর মসজিদ বাড়ির রোডে পাশে গুলগোল্লার মোড়ে কালামের চায়ের দোকান সংলগ্ন একটি ফার্নিসারের দোকানে বসে লুডু খেলছিল। ইমন ওই খেলা দেখছিল। এসময় দুর্বৃত্ত্বরা এসে ইমনকে তাক করে পর পর তিনটি গুলি করে পালিয়ে যায়। গুলিটি তিনটির মধ্যে দুটি তার বুকে এবং একটি কাঁধে বিদ্ধ হয়। স্থানীয়রা গুলির শব্দ পেয়ে এগিয়ে আসেন এবং দেখেন ইমন মাটিতে লুটিয়ে আছে। তারা এসময় ইমনকে উদ্ধার করে রাত ১১টা ১৩মিনিটে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতালের জরুরী বিভাগের ডাক্তার কাজল মল্লিক তাকে মৃত্যু ঘোষণা দিয়ে মর্গে প্রেরণ করেন।

মনোয়ার হোসেন ইমনের মৃত্যুর সংবাদ শুনে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ হাসপাতালে ছুটে আসেন। হাসপাতালে আসেন আওয়ামী লীগ নেতা পৌর কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফা, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আরবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহরুল ইসলাম, যুবলীগ নেতা তৌহিদুর রহমান চাকলাদার ফন্টু, ছাত্রলীগের বিগত কমিটির (ইমনের কমিটির) সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল, বর্তমান কমিটির সভাপতি রওশন ইকবাল শাহী, সাধারণ সম্পাদক ছাল ছাবিল আহমেদ জিসানসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।

ছাত্রলীগ ন‌েতা নিহত ইমনের সুরতহালপ্রস্তুতকারী কোতয়ালি থানার এসআই সোবহান শরীফ জানান, ইমনের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তার পরিবার লাশ নিয়ে চলে গেছে। পুলিশ হত্যাকান্ডের জড়িতদের আটকের জন্য অভিযান অব্যহত রেখেছেন।

শনিবার রাতে ইমন খুন হওয়ার পর যশোর পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। এর মধ্যে উপ-পরিদর্শক হাসানুর রহমান জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখান থেকে একটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। কারা কী কারণে তাকে হত্যা করেছে তা তাৎক্ষণিক জানা যায়নি। খুনিদের আটকের জোর চেষ্টা চলছে।

যশোর জেলা ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল জানান, মনোয়ার হোসেন ইমন তার কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন।

তার চাচা বাবুল আকতার এর কাছে খুনের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এলাকায় কোন খারাপ অভিযোগ ছিল না। খুব ভাল ছেলে ছিল ইমন। কারা কী কারণে খুন করলে জানি না।
তবে, স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে সম্প্রতি শান্তি শৃংখলা রক্ষা কমিটির নিকট অনেক গুলো অভিযোগ দিয়েছে। এ কারণে মাদক ব্যবসায়ীরা তার বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত হয়ে খুন করতে পারে বলে তাদের ধারণা।

মনোয়ার হোসেন ইমন (৩২) ছাত্রলীগের বিগত কমিটি (রিয়াদ-বিপুল)র সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনি বেজপাড়া গুলগোল্লার মোড়ের আজিমাবাদ কলোনী মসজিদ পাড়ার আনোয়ার হোসেনের ছেলে।

Leave a Reply