ম‌িয়ানমার সরকারের উপর শক্তি প্রয়োগ করার কথা বললেন, হুস‌েইন মুহম্মদ এরশাদ।

(অনলাইন ডেস্ক,অভয়নগর বার্তা)

ম‌িয়ানমার সরকারের উপর শক্তি প্রয়োগ করার কথা বললেন, হুস‌েইন মুহম্মদ এরশাদ।

 

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া অসহায় রোহিঙ্গাদের পাশে সবার দাঁড়ানো উচিত। দলমত নির্বিশেষে যার যা সাধ্য ও সামর্থ্য আছে- তা নিয়েই তাদের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন।

 

তিনি আরও বলেন, এত বড় মানবিক বিপর্যয় একাত্তরকে মনে করিয়ে দেয়। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের খাবার নেই, পানি নেই, মাথা গোঁজার জায়গা নেই। মায়ের কোলে ক্ষুধার যন্ত্রণায় শিশু কাঁদছে। কিন্তু মা অসহায়, সন্তানের মুখে একটু খাবার তুলে দেয়ারও সামর্থ্য নেই। নানা বয়সী নারী আর ছোট্ট ছোট্ট শিশুদের আর্তনাদ দেখে বুক কেঁপে ওঠে। এমন দৃশ্য দেখা যায় না।

                                                                                                                                                                                                                                                                    শুক্রবার অভয়নগর বার্তা কে  দেয়া একান্ত এক সাক্ষাৎকারে সাবেক এই রাষ্ট্রপত‌ি এমনটি বলেন।

 

এর আগে বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে তিনি ছুটে যান বঙ্গোপসাগর লাগোয়া টেকনাফের উখিয়ায়। ভিটেমাটিহারা লাখ লাখ রোহিঙ্গা নারী, শিশু ও পুরুষ এখানে আশ্রয় নিয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে, কেউ আহত অবস্থায়, কেউ কেউ কোনোমতে জীবন নিয়ে ছুটে এসেছে বাংলাদেশ নামক সম্পূর্ণ অচেনা-অজানা এক নতুন ঠিকানায়। বিপুলসংখ্যক ত্রাণসামগ্রী নিয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ ছুটে যান এসব অসহায় মানুষের পাশে। নিজের হাতে আশ্রয় শিবিরে থাকা নিরন্ন মানুষের হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন তিনি। এ সময় বার বার আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন সাবেক এই রাষ্ট্রপতি।

 

এরশাদ বলেন, একটি দেশের ভেতরে এভাবে নিধনযজ্ঞ চলতে পারে না। মিয়ানমার সরকার এবং সেখানকার সেনাবাহিনী যা করছে, তা ঘৃণ্য অপরাধ। এই অপরাধের বিরুদ্ধে বিশ্ববাসীকে সোচ্চার হতে হবে। এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশ, ক‚টনীতিক, দাতা সংস্থা এবং মানবাধিকার সংগঠন এ অন্যায়ের প্রতিবাদে সোচ্চার হতে শুরু করেছে। জাতিসংঘের আসন্ন অধিবেশনেও এ নিয়ে কথা হবে। তিনি বলেন, আমার মনে হয়, শুধুমাত্র কথা বলে, বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়ে কাজ হবে না। প্রয়োজনে মিয়ানমার সরকারের ওপর শক্তি প্রয়োগ করতে হবে।
অসহায় রোহিঙ্গাদের জানমাল রক্ষায় সেখানে শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।

 

এরশাদ বলেন, মানুষকে বাঁচাতে হবে। মিয়ানমার সরকার যেভাবে মানুষ মারছে, তা বন্ধে যেমন বিশ্ববাসীকে সঙ্গে নিয়ে তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে হবে। তেমনি যারা প্রাণভয়ে পালিয়ে এ দেশে আশ্রয় নিয়েছেন তাদেরও বাঁচাতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এরই মধ্যে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমি ছুটে গেছি। অন্যদেরও ছুটে যেতে হবে। মানুষের এমন বিপদে আমরা ঘরে বসে থাকতে পারি না। চুপ করে থাকতে পারি না। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় শিবিরে সরেজমিন ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, খাবারের সঙ্কট তো আছেই। সবচাইতে বড় সঙ্কট পানির। শিশু খাদ্যের। বেশিরভাগ মানুষ এক কাপড়েই খোলা আকাশের নিচে দিনের পর দিন কাটাচ্ছে। অনেকেই নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এ অবস্থায় দুর্গতদের মাঝে খাবারের পাশাপাশি পানি, শিশু খাদ্য, প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্যালাইন এবং কাপড় পৌঁছাতে হবে।

 

এরশাদ জানান, তিনি ত্রাণসামগ্রী নিয়ে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর আবার উখিয়া যাবেন। এর আগে দুই-একদিনের মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে দেশ ও বিশ্ববাসীকে অসহায় রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানাবেন। বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ করবেন, যাতে তারা দুর্গতদের পাশে এসে দাঁড়ান। তিনি বলেন, এরই মধ্যে ভারত সরকার ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে। আরো অনেকেই পাঠাচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং পেশাজীবী সংগঠনও দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছে। তবে এই সহায়তাই যথেষ্ট না। আরো বেশি বেশি ত্রাণসামগ্রী নিয়ে অসহায় রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। এরশাদ বলেন, ত্রাণসামগ্রী যাতে অসহায় মানুষের হাতে পৌঁছায় তাও নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে একটি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এজন্য প্রয়োজনে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মনিটরিং সেলও গঠন করা যেতে পারে।

 

সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, রোহিঙ্গারা আরাকানের মুসলিম অধিবাসী। হাজার বছর ধরে তারা সেখানে বসবাস করছেন। মার্তৃভূমিতে নিরাপদে বসবাস করা তাদের জš§গত অধিকার। আমরা আশা করি, আজ হোক কাল হোক রোহিঙ্গারা নিজ ভূমিতে ফিরে যেতে পারবে। তবে এর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত যতদিন রোহিঙ্গারা এ দেশে আছে আমরাসহ বাংলাদেশের সবাই তাদের পাশে থাকব।

Leave a Reply