মিশরের একটি মসজিদে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৪০ জনে পৌঁছেছে।

মিশরের একটি মসজিদে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৪০ জনে পৌঁছেছে। অনলাইনডেস্ক,অভয়নগরবার্তাঃ

মিশরের উত্তরাঞ্চলীয় সিনাই প্রদেশে জুমার নামাজের সময় একটি মসজিদে সন্দেহভাজন জঙ্গিদের হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৪০ জনে পৌঁছেছে বলে খবর দিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের সময় আল-আরিশ নগরীর কাছে বির-আল আবেদ শহরের আল রাওদাহ মসজিদে এ হামলায় আহত হয়েছে আরও ১৩০ জন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে মিশরের গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, জঙ্গিরা চারটি বাহনে করে এসে নামাজরতদের ওপর গুলি চালায়। তবে কে বা কারা এ হামলা চালিয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। গোলযোগপূর্ণ সিনাইয়ে ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেট (আইএস) সংশ্লিষ্ট জিহাদি দলগুলোর উত্থানের পর থেকে শুক্রবারের জামাতে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া কয়েকজনের বরাত দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো লিখেছে, মানুষ যখন ছুটে পালানোর চেষ্টা করছিল, তখন তাদের ওপরও গুলি চালানো হয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসা কয়েকটি ছবিতে মসজিদের মেঝেতে সারি সারি মৃতদেহ এবং রক্তমাখা জামাকাপড় পড়ে থাকতে দেখা যায়। আহতদের হাসপাতালে নিতে মসজিদের প্রবেশপথে দেখা যায় অ্যাম্বুলেন্সের সারি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মিশরে জঙ্গিরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ২০১৩ সালের জুলাইয়ে সেনাবাহিনী ইসলামপন্থি প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকেই দেশটিতে জঙ্গি হামলার ঘটনা বেড়েছে। তখন থেকে মিশরে একের পর এক জঙ্গি হামলায় শত শত পুলিশ, সেনা সদস্য ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে আইএস-সংশ্লিষ্ট সিনাই প্রভিন্স জঙ্গি গোষ্ঠীর হামলায়। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, হামলার পরপরই দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক ডেকেছেন। মিসরের নিরাপত্তা বাহিনী সিনাইয়ের উত্তরে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে। সেখানে জঙ্গিরা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর কয়েক শ সদস্যকে হত্যা করে। গত তিন বছরে দুই পক্ষের লড়াই আরও তীব্র হয়েছে। সেখানে জঙ্গিদের বেশির ভাগ হামলার লক্ষ্যবস্তুই হলো নিরাপত্তা বাহিনী। তবে তারা মিসরের খ্রিষ্টান গির্জা ও তীর্থযাত্রীদের ওপর আক্রমণের মাধ্যমে হামলার পরিধিকে উপদ্বীপের বাইরেও প্রসারিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

Leave a Reply