ভৈরব নদ ১১৮ দখলদারের কবলে, উচ্ছেদে যশোর জেলা প্রশাসনকে পাউবো’র চিঠি।

যশোর জেলা প্রতিনিধি,অভয়নগরবার্তাঃ
ভৈরব নদ ১১৮ দখলদারের কবলে, উচ্ছেদে যশোর জেলা প্রশাসনকে পাউবো’র চিঠি।
ভৈরব নদ জেলা শহর যশোরের বুক চিরে বয়ে গেছে। এই নদের প্রায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার এলাকা ,১১৮ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান দখলে রেখেছে। শহরের মধ্য‌ে অবৈধভাবে দখলে থাকা নদের ওই জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে স্থায়ী ও অস্থায়ী স্থাপনা। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও জেলা প্রশাসনের যৌথ সার্ভে দল ইতোমধ্যে সেসব দখলদারদের সনাক্ত করেছে। অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘ভৈরব রিভার বেসিন এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প’ বাস্তবায়নে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের বিকল্প নেই।
সূত্র মতে, যশোর শহরের বাবলাতলা ব্রিজ থেকে পূর্ব বারান্দী মাঠপাড়া পর্যন্ত ভৈরব নদের সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় সম্প্রতি পাউবো ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে সার্ভে সম্পন্ন করেছে। সিএস রেকর্ড অনুযায়ী নদের সীমানা চিহ্নিত করা হয়েছে। নদের সীমানা চিহ্নিতের পাশাপাশি ১১৮ দখলদারের তালিকা করা হয়েছে। গত ১২ অক্টোবর যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী অবৈধ দখলদারদের তালিকাসহ উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসককে ইতিমধ্য‌ে চিঠিও দিয়েছেন।
নিম্ন‌ে ১১৮ দখলদারদের নামের তালিকাঃ
১১৮ অবৈধ দখলদারের মধ্যে রয়েছে, দড়াটানা ব্রিজ থেকে উজানে বাবলাতলা ব্রিজ পর্যন্ত এলাকার আরিফ বুক ডিপোর ৯ফুট, হেলাল বুক ডিপোর ১৩ফুট, হাসান এন্ড কোং ১২ফুট, ইত্যাদি স্টোর ১০ফুট, হাসান বুক ডিপো ৪০ ফুট, জননী কুরিয়ার সার্ভিসের ৪০ফুট, বকু প্যালেসের ৫ফুট, জামান বেডিং ৫ফুট, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির ৭ফুট, রুপালী স্টিল ট্রাংক সপের ৯ফুট, সোনালী বলাকা ট্রেডার্স ৭ফুট, হাবিব বেডিং ১৪ ফুট, রয়েল বুক ডিপো ৫ফুট, অগ্রণী ফটো স্টুডিও ১৭ ফুট, সেন্ট স্টুডিও স্থাপনার ৫৩ ফুট, এতিমখানার পাশে স্বপ্ন ফার্নিচারের পেছনে ৮ফুট ও ব্লাক বাবুর দখলে ৩৪ ফুট। স্মৃতি উড ৪ ফুট, নিউ উড কিং ৫ফুট, ফনিংটন হোমিও হল ৩৫ফুট, মোহাম্মদ হোসেন ঠান্ডুর তেল মিল ১৮ফুট, সিএনজি কাউন্টার ১১ ফুট, মিঠু ফল ভান্ডার ১২ফুট, মনি ফল ভান্ডারের ১১ফুট, অংকন আর্ট ২০ফুট, মুস্তাকিম ফল ভান্ডারের ২০ফুট, আফরোজা ফ্রুট ৯ফুট, মতি টি স্টোরের ১৯ফুট, অঞ্জলী সেলুনের ১১ফুট, সুমন এন্টারপ্রাইজের ৬ ফুট, শিকদার ফল ভান্ডারের ৬ ফুট, জাহাঙ্গীর পান স্টোরের ৭ফুট, আদি ভৈরব হোটেলের ২০ফুট, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আঞ্চলিক কার্যালয় ১০ফুট, সনি ফুড পার্কের ১৩ফুট, দড়াটানা হোটেলের ১০ফুট, শওকত স্টোরের ৭ফুট, বাগাট মিষ্টান্ন ভান্ডারের ১২ ফুট, নিউ ভৈরব হোটেলের ২৭ফুট, দড়াটানা হসপিটালের গাড়ি পার্কিং ও সাইকেল স্ট্যান্ডের ২১ফুট, একতা ক্লিনিকের ২২ফুট, মর্ডান ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপনার প্রথম তলার ৫ফুট ও দ্বিতীয় তলার ৩ফুট, কমটেক হাসপাতাল ও মর্ডাণ হাসপাতালের ১২ ফুট, জেস ক্লিনিকের ১৯ফুট, অর্থোপেডিক ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ১৫ ফুট, কংকন সাহার বাড়ির ২২ ফুট নদের জায়গা দখল করা হয়েছে।
অপরদিকে, দড়াটানা ব্রিজ থেকে ভাটির দিকে পূর্ব বারান্দী মাঠপাড়া পর্যন্ত যেসব ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের দখলে ভৈরব নদ।
রাজধানী হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টের ২৩ফুট, বিসমিল্লাহ ফ্যাক্স‌ের ১৩ ফুট, ট্রেড হাউজের ৫ফুট, আলী মঞ্জিলের ১৩ফুট, জনতা সুপার মার্কেটের ১২ফুট,সম্রাট সুজের ৮ফুট, প্রাইম সুজ ১৮ফুট, সবজি মার্কেটে নদের সীমানা বরাবর, অরিয়েন্ট ফ্যাক্স‌ের ২০ফুট, ছিট বিতানের পিছনে ২৫ফুট, এ্যানি সুজের পিছনে ৬৪ ফুট, একতা ক্লথ স্টোরের ৬৪ফুট, ফ্যাশন অ্যাম্বডারির বসনের পিছনে ১৮ফুট, কালীবাড়ি পূজা মন্ডপের পিছনে ১৭ ফুট, নোয়াখালি সবজি ভান্ডারের ১৭ফুট, ইমানুল রহমানের বাড়ির ৩৩ ফুট, শাহিনুর রহমানের বাড়ির ১৪ ফুট, মহর আলীর টি স্টলের ৮ ফুট, বক্কার পোল্ট্রি হাউজের ১৫ ফুট, মাটির খেলনা ঘরের ২০ ফুট, বরফ ফ্যাক্টরি, পূর্ব বারান্দী মাঠপাড়ার মনু বিশ্বাসের বাড়ির ১৬ ফুট, দড়াটানা ব্রিজ সংলগ্ন পাখির দোকান ২০ ফুট, রফিকের টি স্টল ৬ ফুট, কালুর টি স্টল ৭ফুট, তাসলিমা টেলিকম ৮ফুট, মাংসের দোকান ৭ফুট, রবিউলের টি স্টল ৭ফুট, সালামের টি স্টল ১১ফুট, স্মার্টেক্স স্থাপনার ১৪ফুট, ইউরি ড্রাগ হাউসের ৫ফুট, দড়াটানা হসপিটালের ৯ফুট, সিরাজুল ইসলামের বাড়ির ২ফুট, শওকত হোসেন বাবুর মাংসের দোকান ১৫ফুট, রফিকুলের টি স্টল ১৫ফুট, নান্নু মিয়ার মাংসের দোকান ১৪ ফুট, বাচ্চু মিয়ার মাংসের দোকান ১৩ফুট, জাহাঙ্গীর হোসেনের পোল্ট্রি হাউজ ১২ফুট, নিমাই চন্দ্র দাসের বাড়ি ২৫ ফুট ও সালাউদ্দিনের বাড়ি ২০ ফুট নদের জায়গা দখল করেছে।
এছাড়াও লিবার্টি সুজ (প্রাইমের পাশে), রাজীব অ্যালমুনিয়াম, আবদুস সবুরের বাড়ি, ঝিলমিল কাপড় বিক্রেতা, সাকেরা, নূর হোসেন মোয়াদ্দার বাড়ি, ইনতিয়াজের বাড়ি, মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়ি, এমদাদুল বিশ্বাসের বাড়ি, আসমা’র বাড়ি, ফারুকের বাড়ি, ইকবালের বাড়ি, আকবর আলীর বাড়ি, মাসুমের বাড়ি, আব্দুল্লাহর বাড়ি, রাশিদা বেগমের বাড়ি, পুলিশ সদস্যের বাড়ি, হাফিজুর রহমানের বাড়ি, আসাদুজ্জামানের বাড়ি, লোকমানের বাড়ি, জয়নালের বাড়ি, আহম্মেদের বাড়ি ও মুকুল মিয়ার গরুর ফার্ম, ল্যাব এইড হসপিটাল, শাহনেওয়াজের বাড়ি, জাহাঙ্গীর হোসেনের বাড়ি, রাজু হকের বাড়ি, ইউনাইটেড আই এন্ড জেনারেল হসপিটাল, ইমরাতের বাড়ি, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, উত্তরা প্রাইভেট হাসপাতাল, আহসান কবীর এক্সপার্ট এন্ড ইমপোর্টের নদীর সীমানা বরাবর স্থাপনা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে যশোরের জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিন জানিয়েছেন, ভৈরব নদের অবৈধ দখলদারদের তালিকা পেয়েছি। প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। দখলদারদের নোটিশ দেওয়া হবে। তারপর উচ্ছেদ অভিযান শুরু করবো। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নে কোন অবৈধ দখলদারকে ছাড় দেওয়া হবে না।

Leave a Reply