প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশ্ন ফাঁস হওয়ায় ৩৬১ টি স্কুলের পরীক্ষা স্থগিত।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশ্ন ফাঁস
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশ্ন ফাঁস হওয়ায় ৩৬১ টি স্কুলের পরীক্ষা স্থগিত।
বরগুনা প্রতিনিধি,অভয়নগরবার্তাঃ
মঙ্গলবার  বরগুনা ও মুন্সীগঞ্জ জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশ্ন ফাঁস হওয়ায় ৩৬১ টি স্কুলের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে বরগুনা সদর উপজেলায় ২৪৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশ্ন ফাঁসপ্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ইংরেজি পরীক্ষা স্থগিত করা হয় এবং মুন্সীগঞ্জে ১১৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাংলা পরীক্ষা স্থগিত করেছে জেলা প্রশাসন।

আমাদের বরগুনা প্রতিনিধি জানান, বরগুনা সদর উপজেলায় ২৪৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ইংরেজি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির সদস্যরা হলেন- বরগুনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মো. মাহবুবুল আলম ও বরগুনা প্রাইমারি টিচার্স ইনস্টিটিউট (পিটিআই) এর সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম। ওই কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) বরগুনা সদর উপজেলার ২৪৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ইংরেজি পরীক্ষা ছিল। কিন্তু আগের দিন (সোমবার) ওই পরীক্ষার প্রশ্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। পরে জেলা প্রশাসন বিষয়টি আমলে নিয়ে শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত করে। তারপরও মঙ্গলবার চতুর্থ শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এবং প্রথম শ্রেণির পরিবেশ পরিচিতি প্রশ্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রকাশ হয়।

জেলা প্রশাসন এবং শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, যাচাই বাছাই করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে জানা যায় শুধু এ তিন বিষয়ের প্রশ্ন ফাঁস নয় অন্য শ্রেণীরও একাধিক বিষয়ের প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে।

বরগুনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল মজিদ বলেন, যাচাই বাছাই করে প্রমাণ পাওয়া গেলে ওই বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত করে, নতুন প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হবে। বরগুনা জেলা প্রশাসক মো. মোখলেছুর রহমান জানান, ঘটনা তদন্তের জন্য দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, মুন্সীগঞ্জে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ২য়, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা ছিল। কিন্তু সোমবার রাতে বাংলা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠলে জেলা প্রশাসক পরীক্ষা স্থগিত করার নির্দেশ দেন। তবে পরবর্তী পরীক্ষাগুলো যথা সময়েই হবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার পঞ্চানন বালা জানান, মঙ্গলবার বাংলা পরীক্ষা প্রশ্নপত্রের ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে তারিখ নির্ধারণ করে পরীক্ষা নেয়া হবে। জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা জানান, গতকাল সোমবার রাতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠে এবং সত্যতা স্বরুপ জেলা প্রশাসকের ই-মেইলে প্রশ্ন পাঠায়। যার জন্য পরীক্ষা স্থগিত করার নির্দেশ দেই।

Leave a Reply