আমলাদের প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে আগ্রহ নেই রাজনৈতিক দলগুলোর।

অনলাইন ডেস্ক,অভয়নগরবার্তাঃ
আমলাদের প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে আগ্রহ নেই রাজনৈতিক দলগুলোর।

আমলাদের প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে আগ্রহ নেই রাজনৈতিক দলগুলোর। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি প্রার্থী হতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করছেন সরকারি আমলা ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসক, শিক্ষক, বড় কর্মকর্তারা। চাকরি থেকে অবসরের পর দলীয় প্রার্থী হতে তিন বছর সদস্য পদ থাকার বিধানটি বিলোপের পর এমপি প্রার্থী হওয়ার আগ্রহের মাত্রা অনেক বেড়েছে তাদের।

কিন্তু মাথায় হাত পড়েছে অন্য একটি নিয়ম নিয়ে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ১২ অনুচ্ছেদে (উপধারা এফ ও এইচ) উল্লেখ আছে, সরকারি চাকরি থেকে অবসর বা অপসারণের তিন বছর পার না হলে প্রার্থী হতে পারবেন না সরকারি, আধা-সরকারি, সশস্ত্রবাহিনী এবং সরকারের কোষাগার থেকে বেতন পায় এমন প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীরা। এ ধরনের বিধান থাকায় বেকায়দায় পড়ে গেছেন এসব চাকরিজীবী। এমন বিধান বিলুপ্ত করতে তাই তারা উঠেপড়ে লেগেছেন। নিয়মিত দৌড়ঝাঁপ করছেন নির্বাচন কমিশনে।

বিধানটি বিলুপ্ত করার জন্য ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনে আবেদনও দিয়েছেন বেশ কয়েকজন আমলা, চিকিৎসক, শিক্ষকসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তবে আমলাদের এমন প্রস্তাবে নির্বাচন কমিশন নমনীয় হলেও আগ্রহ নেই বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলের। সদ্য শেষ হওয়া সংলাপে আমলাদের দেওয়া প্রস্তাবের বিপক্ষে মত দিয়েছেন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। দলের নেতারা বলেছেন, চাকরি ছাড়ার পরে তিন বছর তো নয়ই, কমপক্ষে ৫ বছর অতিবাহিত না হলে যেন আমলারা প্রার্থী হতে না পারেন। তা না হলে নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে।

এই মন্তব্যের প্রতিবাদে নির্বাচনে আগ্রহী আমলা ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীরা বলছেন, বিধানটি বিলোপ হলে নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা তো হবেই না, বরং দেশ পাবে তুলনামূলক যোগ্য ও মেধাবী এমপি। তাই দেশের প্রয়োজনে প্রার্থী হওয়ার শর্ত শিথিল করা উচিত। তা করা না হলে দেশে রাজনৈতিক সন্ত্রাস, দুর্নীতি কমবে না। তারা আরো বলেন, সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীরা এমনিতেই চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পর ৬০ বছর বয়স পার হয়ে যায়, তারপর যদি আরো তিন বা পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হয় তাহলে তো একেবারেই বুড়ো হয়ে যাবেন। তখন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো এতবড় একটি নির্বাচনে দৌড়ঝাঁপ করা কঠিন হয়ে পড়বে। আর তাতে দিনদিন সংসদ নির্বাচনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন দেশের এই মেধাবী ও বিচক্ষণরা। এ সুযোগে অপেক্ষাকৃত অযোগ্যদের সংখ্যা বাড়তে থাকবে।

এব্যাপারে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, চাকরি ছেড়ে তিন বছর অতিবাহিত হওয়ার আগেই নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য আমলারা প্রস্তাবনা দিলেও আরপিও পরিবর্তনের কোনও সম্ভাবনা নেই। এছাড়া চাকরি ছেড়ে আমলারা নির্বাচনের প্রার্থী হোক এটা রাজনৈতিক দলগুলোও চায় না। তিনি বলেন, আরপিওতে উল্লেখ আছে সরকারি, আধা-সরকারি এবং সরকারি চুক্তিভুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বা কর্মচারী চাকরি ছাড়ার পর ৩ বছর পার না হলে নির্বাচনের প্রার্থিতার জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

তিনি আরও বলেন, যে সকল প্রতিষ্ঠানের বেতন বোনাস সরকারের কোষাগার থেকে প্রদান করা হয় সেসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম। জানা গেছে একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কেএম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন আইন সংস্কারের পরিকল্পনার মধ্যে এ বিষয়েও আলোচনা চলছে। যদি আইন সংস্কার হয়, তাহলে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সরকারি-আধাসরকারি ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীদের চাকরি ছাড়ার তিনবছর পার না হলেও প্রার্থিতার সুযোগ মিলতে পারে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন ইসি নির্বাচনি আইনের ব্যাপক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েও শেষ মুহূর্তে তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। মাঠপর্যায় থেকে কিছু সংস্কার প্রস্তাবও সংগ্রহ করা হয়। নতুন কমিশনের সদ্য শেষ হওয়া সংলাপে সব প্রস্তাব আমলে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. মাহবুব তালুকদার বলেন, আরপিও-তে যেভাবে উল্লেখ আছে সেভাবে প্রার্থিতার জন্য আবেদন করতে হবে। এ ধরনের বিধান বিলোপ বা শর্ত শিথিল নিয়ে আমাদের কাছে কোনো প্রস্তাবনা এখনও আসেনি।

Leave a Reply