আমরণ অনশনে অসুস্থ ২৭ শিক্ষককে হাসপাতালে ভর্ত‌ি করা হয়েছে।

আমরণ অনশনে

আমরণ অনশনে অসুস্থ ২৭ শিক্ষককে হাসপাতালে ভর্ত‌ি করা হয়েছে।

মাসুম বিল্লাহ,ঢাকা, অভয়নগরবার্তাঃ 

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শিক্ষকদের আমরণ অনশন রোববার দ্বিতীয় দিনে গড়িয়েছে। ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক মহাজোট’-এর ব্যানারে এই কর্মসূচিতে বহু শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ইতিমধ্য‌ে, আমরণ অনশনে অসুস্থ ২৭ শিক্ষককে হাসপাতালে ভর্ত‌ি করা হয়েছে।আমরণ অনশনেআমরণ অনশনেহাজোটভুক্ত বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের সভাপতি শাহিনুর আল আমিন সাংবাদিকদের জানান, রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত অন্তত ২৭ শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ থেকে আসা শিক্ষক নাসরিন স্ট্রোক করেছেন। সিরাজগঞ্জ থেকে আসা শিক্ষক সানোয়ার হোসেনের অবস্থা ভালো নয়। তিনি হাসপাতালের ৬০২ নম্বর বেডে ভর্তি রয়েছেন।

অনশনে অসুস্থ শিক্ষকদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ক’জন হলেন- সিদ্দিকুর রহমান, আবু তালেব, সালেহা আক্তার মুক্তা, রফিকুল ইসলাম, আবদুর রহিম, এখলাসুর রহমান, ফিরোজ আলম, মো. আলাউদ্দিন। ক’জন অসুস্থ শিক্ষককে শহীদ মিনারেই স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়েছে।

শাহিনুর আল আমিন জানান, অনানুষ্ঠানিকভাবে রোববার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি প্রতিনিধি দল তাদের সঙ্গে কথা বলতে এসেছেন। দাবি পূরণে ওই প্রতিনিধি দল আগে আন্দোলন থেকে সরে আসতে শিক্ষকদের শর্ত দিয়েছেন। তবে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানান তিনি। বিষয়টি জানতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবু হেনা মোস্তফা কামালকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি সাড়া দেননি।

দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে দেখা যায়, দাবি আদায়ে কয়েক হাজার শিক্ষক বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। শহীদ মিনারের মূল বেদিতে দাঁড়িয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষকরা বক্তব্য দিচ্ছেন। অনেকে সংহতি জানাতেও এসেছেন।

ফেনীর দাগনভূঞা থেকে আসা সহকারী শিক্ষক আবদুর রাজ্জাক অভয়নগরবার্তাকে  জানান, প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে জাতীয় বেতন স্কেলের ১১তম গ্রেডে তাদের বেতন দিতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা অনশন চালিয়ে যাবেন। বিজয় না নিয়ে তারা ফিরে যাবেন না।

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির একাংশের সভাপতি শামসুদ্দিন মাসুদ জানান, প্রাথমিক শিক্ষকদের মধ্যে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বেতন বৈষম্য আছে।

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পরের ধাপে নির্ধারণের দাবিতে এই আন্দোলন। গত সাড়ে তিন বছর আন্দোলন করেও সমাধান না পাওয়ায় তারা অনশনে বসেছেন।

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির অপরাংশের সভাপতি নাসরিন সুলতানা জানান, শিক্ষাগত যোগ্যতা এক হওয়ার পরও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের বেতনে বৈষম্য মানা যায় না। ১৯৭৩ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত এটা ছিল না। ১৯৮৫ সালে এক ধাপ, ২০০৬ সালে দুই ধাপ এবং ২০১৪ সালে তিন ধাপ পার্থক্য তৈরি করা হয়। বর্তমানে প্রধান শিক্ষকরা বেতন পান ১১তম গ্রেডে আর সহকারী শিক্ষকরা পান ১৪তম গ্রেডে, যা তাদের জন্য অপমানজনক ও বৈষম্যমূলক। প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে তারা বেতনের পার্থক্য চান ১ গ্রেড নিচে।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ অনশন শুরু করে দেশের সাড়ে তিন লাখ শিক্ষকের সংগঠন প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক মহাজোট। এতে মহাজোটের অধীনে থাকা ১০টি সংগঠনের শিক্ষকরা অংশ নিয়েছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কয়েক হাজার শিক্ষক এই অনশন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।

Leave a Reply